হজমের সমস্যা হলে করণীয় কী?

হজমের সমস্যা হলে করণীয় কী?

হজমের সমস্যা হলে স্বাস্থ্যকর খাবার, যেমন – ফল, সবজি, গোটা শস্য ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন। চর্বিযুক্ত খাবার ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। আদা চা পান করুন এবং খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান। দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

করণীয় বিষয়:

সুষম ও ফাইবারযুক্ত খাবার:

ফল, সবজি, গোটা শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ করুন। এগুলি হজমশক্তি বাড়াতে ও মল নরম করতে সাহায্য করে। 

পর্যাপ্ত পানি পান:

হাইড্রেটেড থাকা জরুরি, কারণ পানি ছাড়া কোনো খাবারই সঠিকভাবে হজম হয় না। 

ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া:

খাবার খাওয়ার সময় তা ভালো করে চিবিয়ে গিলে ফেলুন। 

প্রক্রিয়াজাত ও চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন:

এই ধরনের খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই এগুলো সীমিত করুন। 

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ:

ব্যায়াম এবং শিথিলকরণ কৌশলগুলির মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কারণ এটি হজমতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। 

আদা চা পান:

আদা বমি বমি ভাব এবং বদহজম দূর করতে সহায়ক। 


কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন: 

যদি আপনার হজমের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

যদি আপনি ভেষজ সম্পূরক (herbal supplement) গ্রহণের কথা ভাবেন।

যদি আপনার লক্ষণগুলি গুরুতর হয় বা নিরাময় না হয়।


হজমের সমস্যা হলে (যেমন বদহজম, গ্যাস, অতিরিক্ত এসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া) কিছু সাধারণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। এখানে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হলো:

১. খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখা

ভেজাল ও তেলে ভরা খাবার কমানো।

ছোট-ছোট খাবার খাওয়া, একবারে অনেক না খাওয়া।

ধীরে ধীরে খাওয়া এবং ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া।

বেশি আঁশযুক্ত খাবার (যেমন সবজি, ফল, শস্য) খাওয়া, তবে ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে।


২. পানি ও তরল গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

গরম পানি বা হালকা হরবাল চা (পুদিনা, আদা, তুলসী) হজমে সাহায্য করতে পারে।


৩. প্রোবায়োটিক বা দই

দই বা কিমচি জাতীয় খাবার অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে হজম সহজ করে।


৪. জীবনযাত্রার অভ্যাস

খাওয়ার পরে হঠাৎ শুয়ে না থাকা, কিছুটা হাঁটা হজমে সাহায্য করে।

মানসিক চাপ কমানোও হজমে গুরুত্বপূর্ণ।


৫. ঔষধ ব্যবহার

অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের জন্য অ্যান্টাসিড বা প্রাকৃতিক হজম সহায়ক ট্যাবলেট।

তবে, ডাক্তার দেখানো ঔষধ ছাড়া বেশি ও দীর্ঘকাল নেওয়া ঠিক নয়।


৬. কখন ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন

ব্যথা খুব তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে

রক্তমিশ্রিত পায়খানা বা বারবার ডায়রিয়া হলে

ওজন হঠাৎ কমে গেলে বা খাবার ঠিক মতো হজম না হলে


গুরুত্বপূর্ণ: 

আপনার লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণ করুন এবং কী খেলে উপকার বা ক্ষতি হয়, তা খেয়াল রাখুন।

দীর্ঘমেয়াদী হজমের সমস্যা হলে একজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।