রক্তে হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) বাড়ানোর উপায়

রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর উপায়

রক্তে হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) কমে গেলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়, ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। এটি সাধারণত আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও ফলিক এসিডের ঘাটতির কারণে হয়।

রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে আয়রন, ফোলেট এবং ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার খান, যেমন - শাকসবজি, লাল মাংস, ডাল, বাদাম, বীজ এবং আয়রন সমৃদ্ধ শস্য। এছাড়াও, সার্ডিন, ম্যাকেরেল এবং অন্যান্য মাছ হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সহায়ক। একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা অনুসরণ করলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত হয়, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করতে সাহায্য করে। 


হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান 

আয়রন:

হিমোগ্লোবিনের মূল উপাদান, তাই পর্যাপ্ত আয়রন গ্রহণ করা জরুরি।

ফোলেট (ভিটামিন B9):

লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ফোলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

ভিটামিন বি১২:

এটিও লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য একটি অপরিহার্য পুষ্টি। 


খাবার যা হিমোগ্লোবিন বাড়াতে পারে 

শাকসবজি:

সবুজ শাকসবজি, যেমন পালং শাক, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। 

লাল মাংস:

গরুর মাংসের মতো লাল মাংসে আয়রন ভালো পরিমাণে থাকে। 

ডাল ও বিনস:

বিভিন্ন ধরনের ডাল ও বিনসে আয়রন ও ফোলেট পাওয়া যায়। 

বাদাম ও বীজ:

বাদাম এবং কিছু বীজ আয়রনের ভালো উৎস। 

আয়রন সমৃদ্ধ শস্য:

ওটস বা অন্যান্য আয়রনযুক্ত শস্যের খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে। 

মাছ:

সার্ডিন ও ম্যাকেরেলের মতো কিছু মাছে আয়রন ও ভিটামিন বি১২ থাকে। 


করণীয়

আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় উপরের খাবারগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন।

একটি সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন।

হিমোগ্লোবিন কম হওয়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা জানতে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 


কী খাবেন

১. আয়রন সমৃদ্ধ খাবার

লাল শাক, পালং শাক, কলমি শাক

ডাল, ছোলা, মসুর, সয়াবিন

খেজুর, কিশমিশ, ডুমুর

ডিম (বিশেষ করে কুসুম)

মাছ, মুরগি, লিভার


২. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার (আয়রন শোষণে সাহায্য করে)

লেবু, কমলা, পেয়ারা, টমেটো, কাঁচা আম

ফল খাওয়ার সময় লেবু চিপে খেলে আয়রন বেশি শোষিত হয়


৩. ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার

দুধ, দই, ডিম

মাছ, মুরগি


৪. ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার

পালং শাক, ব্রকলি, বাঁধাকপি

ডাল, বিটরুট

কলা, পেঁপে


যেসব খাবার কম খাবেন (কারণ এগুলো আয়রন শোষণ কমায়)

অতিরিক্ত চা ও কফি

সফট ড্রিংকস

অতিরিক্ত দুধ/ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট (আয়রন শোষণ কমায় যদি খাবারের সঙ্গে খাওয়া হয়)


জীবনধারার যত্ন

নিয়মিত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান

ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

হালকা ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়

পর্যাপ্ত ঘুমান


সতর্কতা

হিমোগ্লোবিন অনেক কমে গেলে (মহিলাদের < ১০ g/dl, পুরুষদের < ১২ g/dl) শুধু খাবার নয়, ডাক্তারি চিকিৎসা বা আয়রন ট্যাবলেট/ইনজেকশন প্রয়োজন হতে পারে।