leg pain hole ki korben-পায়ের ব্যথা হলে কী করবেন?

পায়ের ব্যথা হলে কী করবেন?

পায়ের ব্যথা হলে দ্রুত উপশমের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, আক্রান্ত পা একটু উঁচু করে রাখুন, এবং ব্যথার জায়গায় বরফ ব্যবহার করুন। ব্যথা বেশি হলে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে এবং আক্রান্ত স্থান গরম সেঁক বা উষ্ণ স্নান করলে আরাম পাওয়া যেতে পারে। যদি এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোতে ব্যথা না কমে বা ব্যথা তীব্র হয়, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ পায়ের ব্যথার পেছনে বিভিন্ন কারণ যেমন আঘাত, রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা বা স্নায়বিক সমস্যা থাকতে পারে। পায়ের ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা, তবে এর কারণ ভেদে সমাধানও ভিন্ন হতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ হাঁটা/দাঁড়িয়ে থাকা, মাংসপেশির টান, রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা বা গেঁটে বাতের মতো রোগ থেকেও ব্যথা হতে পারে।


প্রাথমিক করণীয়:

বিশ্রাম:

যতটা সম্ভব পা এবং শরীরকে বিশ্রাম দিন। 

উঁচু করে রাখা:

পা হার্টের স্তরের চেয়ে একটু উপরে তুলে রাখুন। 

বরফ ব্যবহার:

আক্রান্ত স্থানে বরফের প্যাক দিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য সেঁক দিন। 

হালকা চাপ:

ফোলা কমাতে ব্যান্ডেজ বা সংকুচিত কাপড়ের ব্যান্ডেজ ব্যবহার করতে পারেন। 

গরম সেঁক:

উষ্ণ স্নান বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করে ব্যথা উপশম করতে পারেন। 

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন:

যদি উপরের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করার পরও ব্যথা না কমে, অথবা ব্যথা তীব্র হয় ও ছড়িয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 


পায়ের ব্যথার সম্ভাব্য কারণ:

আঘাত:

পেশী স্ট্রেন বা মোচ, অথবা আঘাত থেকে ব্যথা হতে পারে। 

অতিরিক্ত ব্যবহার:

সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ব্যথা হতে পারে। 

রক্তসঞ্চালনের সমস্যা:

রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হলে পায়ে ব্যথা হতে পারে। 

স্নায়বিক সমস্যা:

সায়াটিকা বা নার্ভের সাপ্লাই না পাওয়ার কারণে পায়ে ব্যথা ও অসাড়তা হতে পারে। 

অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থা:

আর্থ্রাইটিস, ফাইব্রোমায়ালজিয়া বা ভাইরাল সংক্রমণও ব্যথার কারণ হতে পারে। 


ঘরোয়া করণীয়

বিশ্রাম: পায়ের ওপর চাপ কমান, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না।

গরম সেঁক: গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে বা হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহার করুন।

ঠান্ডা সেঁক (যদি ফুলে যায়): বরফ কাপড়ে মুড়ে ১০–১৫ মিনিট লাগান।

উঁচুতে রাখা: শোবার সময় পায়ের নিচে বালিশ রাখুন।

হালকা মালিশ: অলিভ অয়েল/সরিষার তেল গরম করে মালিশ করলে রক্ত চলাচল ভালো হয়।

স্ট্রেচিং ও হালকা ব্যায়াম: রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।

সুষম খাবার: দুধ, ডিম, শাকসবজি, কলা (পটাশিয়াম), সূর্যের আলো (ভিটামিন ডি) নিন।

পানি বেশি খান: শরীর ডিহাইড্রেটেড হলে মাংসপেশি ক্র্যাম্প হতে পারে।


এড়িয়ে চলুন

টাইট জুতো

দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকা

অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও জাঙ্ক ফুড


কখন ডাক্তার দেখাবেন

ব্যথা কয়েকদিন ধরে না কমলে

হঠাৎ পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা ও ফুলে গেলে

হাঁটতে সমস্যা হলে

পা লাল বা কালচে হয়ে গেলে

ডায়াবেটিস/হৃদরোগ/কিডনি রোগ থাকলে


পায়ের ব্যথা বাড়ে অতিরিক্ত হাঁটা, দৌড়ানো বা ভারী কাজ করা, রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা, আঘাত, মচকানো বা হাড় ভাঙা, গেঁটে বাত বা আর্থ্রাইটিস, স্নায়ুর চাপ (sciatica),ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি বা পটাশিয়ামের ঘাটতির ফলে যদি ব্যথা তীব্র হয়, তবে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।