তওবা (Tawbah) কবুলের শর্তসমূহ

তওবা কবুলের শর্তসমূহ

তওবা (Tawbah) অর্থ ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা। ইসলামে পাপ কাজ বা অবাধ্যতা ছেড়ে দিয়ে খাঁটি মনে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাকে তওবা বলে। এটি অনুতপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার প্রক্রিয়া। খাঁটি তওবা বা তওবাতুন নাসুহা করলে আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। 

তওবা কবুলের শর্তসমূহ:

আল্লাহর দরবারে তওবা কবুল হওয়ার জন্য ৪টি (মতান্তরে ৫টি) বিশেষ শর্ত রয়েছে:

১. পাপ থেকে বিরত হওয়া: যে পাপের জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন, তা অবিলম্বে ত্যাগ করতে হবে।

২. অনুতপ্ত হওয়া: অতীতের ভুলের জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া (অনুতপ্ত হওয়াই তওবা)।

৩. দৃঢ় সংকল্প: ভবিষ্যতে কখনোই সেই পাপ কাজে ফিরে না আসার অটল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

৪. হক ফিরিয়ে দেওয়া: যদি পাপটি মানুষের হক বা অধিকার সংক্রান্ত হয় (যেমন- চুরি, জুলুম), তবে তা ফিরিয়ে দিতে হবে বা মাফ চেয়ে নিতে হবে। 


তওবা করার নিয়ম:

নিয়ত: মনে মনে খাঁটি নিয়তে তওবার ইচ্ছা করা।

সালাত: অজু করে দুই রাকাত সালাত (তওবার নামাজ) আদায় করা উত্তম।

দোয়া: আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা। বিশেষভাবে নিচের দোয়াটি পড়া যায়:

বাংলা উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লা-হাল আ যীমাল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা-হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতূবু ইলাইহি।

অর্থ: "আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক এবং আমি তাঁরই দিকে ফিরে আসছি"।

 

তওবার উপযুক্ত সময়:

মৃত্যুর সময় বা সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় তওবা কবুল হয়। তবে তারুণ্যে এবং সুস্থ অবস্থায় তওবা করা উত্তম। 


তওবার গুরুত্ব:

আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীকে ভালোবাসেন।

তওবা করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিষ্পাপ শিশুর মতো পবিত্র হয়ে যায়।

কবিরা গুনাহ মাফের জন্য তওবা অপরিহার্য । 

তওবা সর্বদা আন্তরিক হতে হবে, লোকদেখানো নয়। আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু, তিনি আন্তরিকভাবে তওবা করলে অবশ্যই মাফ করেন। 


তওবা বা পাপ থেকে মাফ চাওয়ার জন্য সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো সাইয়েদুল ইস্তিগফার, এছাড়া “আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতুবু ইলাইহি” পাঠ করা যায়। 


নিচে বিস্তারিত দোয়া, অর্থ ও নিয়ম দেওয়া হলো: 

মূল তওবা ও ইস্তিগফারের দোয়া:

উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতুবু ইলাইহি।

অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে আমার সমস্ত পাপের জন্য ক্ষমা চাই, আমি তাঁর দিকেই ফিরে আসি।


সাইয়েদুল ইস্তিগফার (শ্রেষ্ঠ ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া):

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বী লা ইলাহা ইল্লা আংতা, খালাক্কতানী ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাত্বাতু, আঊযুবিকা মিন শাররি মা ছানাতু, আবূউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযামবী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আংতা ।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি আমার সাধ্যমতো তোমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর অবিচল আছি। আমি যা করেছি, তার অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমার ওপর তোমার দেওয়া নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আমার গুনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারণ, তুমি ছাড়া পাপ মাফ করার কেউ নেই।


তওবার নিয়ম:

১. খাঁটি মনে অনুতপ্ত হওয়া।

২. অযু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া।

৩. আল্লাহর কাছে চোখের পানিতে নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়া। 


অন্যান্য দোয়া:

রাব্বিগফিরলি (হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন)।

আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু, ওয়া আতুবু ইলাইহি