হজ ও ওমরাহর মধ্যে পার্থক্য কী?

হজ ও ওমরাহর মধ্যে পার্থক্য কী?

হজ হলো ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভ এবং শারীরিকভাবে ও আর্থিকভাবে সমর্থ মুসলিমদের জন্য জীবনে একবার ফরজ বা আবশ্যক ইবাদত, অন্যদিকে ওমরাহ হলো একটি সুন্নাত ইবাদত যা জীবনে একবার পালন করা সুন্নাত।


হজ ও ওমরাহর প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

হুকুম বা বাধ্যবাধকতা

হজ: সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য এটি ফরজ। এটি অস্বীকার করলে ঈমান থাকে না।

ওমরাহ: এটি সুন্নাত বা মুস্তাহাব ইবাদত। না করলে গোনাহ হয় না।


সময় ও মেয়াদ

হজ: জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে (সাধারণত ৮ থেকে ১২ বা ১৩ জিলহজ) পালন করতে হয়। এর মূল কাজ শেষ করতে ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগে।

ওমরাহ: বছরের যেকোনো সময় (হজের নির্দিষ্ট দিনগুলো ছাড়া) পালন করা যায়। এর কাজগুলো মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বা একদিনেই শেষ করা সম্ভব।


মূল কাজ বা রোকন

হজ: আরাফার ময়দানে অবস্থান ও মুজদালিফায় রাতযাপন, মিনার জামারায় শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ, এবং কোরবানি করা আবশ্যক। এছাড়া তাওয়াফে কুদুম ও তাওয়াফে বিদা রয়েছে।

ওমরাহ: আরাফা, মুজদালিফা বা মিনায় যাওয়ার কোনো বিধান নেই। ওমরাহর প্রধান কাজ হলো মাত্র তিনটি—ইহরাম বাঁধা, কাবা শরিফ তাওয়াফ করা এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করা, এরপর মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছাঁটা।


সহজভাবে:

হজ = নির্দিষ্ট সময়ে + আরাফা + মিনার আমল + তাওয়াফ + সাঈ

ওমরাহ = ইহরাম + তাওয়াফ + সাঈ + চুল কাটা/ছোট করা


কুরআনের নির্দেশ


আল্লাহ বলেন:


“আর আল্লাহর জন্য হজ ও ওমরাহ পূর্ণ করো।”

— সূরা আল-বাকারা, ২:১৯৬


আর হজের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে:


“হজের মাসগুলো নির্ধারিত।”

— সূরা আল-বাকারা, ২:১৯৭